পুকুরপাড়ের ডাক
গ্রামের পাশে একটা বড় পুকুর। পুকুরটার পাশের বটগাছটা খুবই পুরনো। স্থানীয় মানুষজন বলে, পুকুরে নাকি রাত হলে কাউকে ডাক শোনা যায়। কিন্তু রাকিব এসব মানতে চায় না।
একদিন সন্ধ্যায় বন্ধুরা মিলে সাহস করে ঠিক করল, রাতে পুকুরের ধারে গিয়ে দেখবে আসলে কী হয়। রাত দশটার দিকে তারা পুকুরের পাড়ে পৌঁছাল। মশালের আলোয় পুকুরের পানি টলমল করছে। পুকুরের পাশে বসে গল্প করতে লাগল সবাই।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ শুনতে পেল, কেউ যেন ফিসফিস করে ডাকছে, "এই যে... এই যে..."
সবাই চুপ হয়ে গেল। "কিছু শুনলে?" রাকিব ফিসফিস করে বলল।
ডাকটা আবার শোনা গেল, এবার আরও পরিষ্কার। যেন পুকুরের মাঝখান থেকে কেউ ডাকছে। কিন্তু পানিতে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
সাহস করে রাকিব পুকুরের দিকে এগিয়ে গেল। মশালের আলোয় পানিতে তার নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পেল। কিন্তু হঠাৎই প্রতিবিম্ব বদলে গেল। সেখানে তার বদলে এক বুড়ো মানুষের মুখ। সেই মুখের ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি।
"তুই এসেছিস? এবার আমায় সঙ্গ দে!" পানির ভেতর থেকে হাত বেরিয়ে রাকিবের পা চেপে ধরল।
রাকিব চিৎকার করে উঠল। বন্ধুরা দৌড়ে এসে তাকে ধরে টানল। অনেক কষ্টে তারা রাকিবকে পুকুর থেকে সরাতে পারল। কিন্তু রাকিব তখন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। মুখে কোনো কথা নেই।
সেদিনের পর থেকে রাকিব আর কথা বলেনি। পুকুরটার পাশে রাত হলে এখন আর কেউ যায় না। তবে মাঝে মাঝে, গভীর রাতে, আবার সেই ডাক শোনা যায়—"এই যে... এই যে..."