অচেনা দরজা
রাত তখন প্রায় বারোটা। বিপ্লব তার নতুন বাসায় প্রথম রাত কাটাচ্ছে। শহরের এক কোণে পুরনো এই দোতলা বাড়িটি সে সস্তায় ভাড়া পেয়েছে। বাড়ি বেশ বড়, তবে কেমন যেন একটা অস্বাভাবিক নীরবতা চারপাশে।
ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে নিতে বিপ্লব লক্ষ্য করল, করিডোরের এক কোণে একটা পুরনো কাঠের দরজা। দরজাটা সে আগে দেখেনি। "এটা কীসের দরজা?" নিজের মনেই বলল সে। বাড়িওয়ালা তো কিছু বলেনি।
কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে দরজার সামনে গেল। দরজাটা খুবই পুরনো আর ধুলো জমে আছে। হাতে ধাক্কা দিতেই দরজা কট করে খুলে গেল। ভেতরে অন্ধকার। টর্চ জ্বালিয়ে দেখতে গেল সে।
ভেতরে একটা সরু সিঁড়ি। সিঁড়িটা নিচের দিকে নেমে গেছে। যেন মাটির গভীরে। কোনো কারণ ছাড়াই তার গায়ে কাঁটা দিল। "এসব কী?" ভেবে সে সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করল।
নিচে গিয়ে সে দেখল, একটা ছোট ঘর। ঘরের মেঝেতে চক দিয়ে আঁকা একটা গোল চিহ্ন। চারপাশে পুরনো মোমবাতির টুকরো আর কয়েকটা অদ্ভুত প্রতীক। হঠাৎ তার মনে হলো, ঘরের ভেতরের বাতাস ভারী হয়ে গেছে। একটা অদ্ভুত গন্ধ ভেসে আসছে।
পেছনে হালকা চাপা হাসির শব্দ শুনতে পেল বিপ্লব। দ্রুত ঘুরে তাকাল। কেউ নেই। কিন্তু দরজাটা নিজের থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
বিপ্লব দরজার দিকে দৌড়াতে গিয়ে দেখতে পেল, গোল চিহ্নের মাঝখানে হঠাৎ কালো ধোঁয়া জমাট বাঁধছে। ধোঁয়ার মধ্যে থেকে ধীরে ধীরে একটা অবয়ব ফুটে উঠল। একটা বিকট চেহারার মানুষ, যার চোখে আগুনের মতো আলো।
"তুই এখানে কেন?" সেই অবয়ব ফুঁসে উঠল।
বিপ্লব দরজা ধাক্কাতে লাগল। দরজা খুলছে না। ঘরের ভেতরের অন্ধকার যেন তাকে গিলে ফেলছে।
পরদিন সকালে বাড়িওয়ালা এসে দেখে, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও দরজা খোলা গেল না। পরে দরজা ভেঙে যখন ভেতরে ঢুকল, তখন ঘরে কেউ নেই। শুধু মেঝেতে সেই চক দিয়ে আঁকা গোল চিহ্ন আর বিপ্লবের স্যান্ডেল পড়ে আছে।
বাড়ির সেই অংশে আর কেউ যায় না। এখনো রাতে মাঝে মাঝে চাপা হাসির শব্দ শোনা যায়।