রুমি ও তার বন্ধু মিহির একসাথে একটি পাহাড়ি গ্রামের শীতকালীন ছুটিতে বেড়াতে গিয়েছিল। গ্রামের এক কোণে ছিল একটি পুরনো, পরিত্যক্ত বাড়ি, যা সবার কাছেই "ভূতুড়ে বাড়ি" নামে পরিচিত ছিল। গ্রামের লোকেরা বলত, রাতের অন্ধকারে বাড়িটির জানালায় সাদা চোখ দেখা যায়, আর তার মাঝে অদ্ভুত এক কণ্ঠ শোনা যায়, যেটি চুপিচুপি এক সময় সবকিছু গ্রাস করে ফেলে।
রুমি ও মিহির তাদের সাহস পরীক্ষা করতে চেয়েছিল এবং ঠিক সিদ্ধান্ত নিল, সন্ধ্যার পর তারা ঐ বাড়িতে ঢুকবে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হলে তারা বাড়ির দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরের পরিবেশটা খুবই অন্ধকার ছিল, মেঝে ছিল ভেঙে যাওয়া এবং দেয়ালের কাঁচের টুকরো চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
তাদের প্রথম অনুভূতি ছিল অদ্ভুত শীতলতা, যেন পুরো ঘরটি মৃত ছিল। হঠাৎ, রুমির চোখে পড়ল একটি জানালা, যার কাচ ভাঙা ছিল, কিন্তু কাচের মধ্যে যেন কিছু ছিল। সে জানালার দিকে এগিয়ে গেল এবং দেখল সেখানে দুটি সাদা চোখ, যা রোমাঞ্চকরভাবে তাকিয়ে ছিল। চোখ দুটি এক মুহূর্তের জন্য তাকে দেখল এবং তারপর এক অদ্ভুত শীতল বাতাস ঘরটিকে ঘিরে ফেলল।
মিহির দ্রুত রুমির কাছে এসে বলল, "আমরা এখান থেকে চলে যাই, এটা ঠিক নয়।" কিন্তু রুমি কিছুই শোনে না। সে জানালার দিকে আরও এগিয়ে গিয়ে জানালার কাছে হাত রাখল। তখনই এক অদ্ভুত কণ্ঠ তার কানে আসল, "এখানে থাকো, আমার সাথে, চিরকাল।"
রুমি চমকে উঠল, আর তার হাত জানালার কাঁচ থেকে সরিয়ে নিল। মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি এক দুঃখজনক অন্ধকারে ডুবে গেল, আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মিহির ভয় পেয়ে বলল, "চল, চলে যাই!" কিন্তু রুমি অদ্ভুতভাবে মিথ্যা হাসি দিয়ে বলল, "আমি কিছুই ভুল দেখিনি, কিছুই হয়নি।"
অবশেষে, তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে গ্রামের দিকে চলে যায়। কিন্তু পরের দিন, গ্রামবাসী জানায়, সেই বাড়ির জানালার পাশ দিয়ে রুমি দাঁড়িয়ে ছিল, আর তার চোখ দুটি সাদা হয়ে গিয়েছিল। সবার ভাষায়, রুমি আর মিহির, দুজনেই কিন্তু ফিরে আসেনি। সেই পুরনো বাড়ির জানালায় এখনো দুটি সাদা চোখ দেখে যেতে হয়, কিন্তু কেউ আর সেখানে যায় না, কারণ তারা জানে, যারা সেখানে গিয়েছিল, তারা আর কখনো বের হতে পারেনি।