বিশ্বনাথ ছোট একটি শহরে বাস করত। শহরের পাশেই একটি পুরনো বাড়ি ছিল, যেখানে একসময় এক পরিবার বাস করত। তবে, তাদের অদ্ভুত মৃত্যু ঘটানোর পর বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। লোকমুখে শোনা যায়, সেই পরিবার গোপনে কিছু কালো যাদু চর্চা করত, এবং একদিন তাদের সেই জাদুর ফলস্বরূপ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়।
বিশ্বনাথ শহরে ফিরে আসার পর, তার বন্ধুরা তাকে ঐ বাড়িটি দেখতে যাওয়ার জন্য উত্সাহিত করে। যদিও তার মধ্যে কোনো ভীতি ছিল না, তবুও সেই বাড়িটি দেখে সে অদ্ভুতভাবে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। তার মনে হচ্ছিল, বাড়িটির চারপাশে কিছু অদৃশ্য শক্তি ঘুরপাক খাচ্ছিল।
একমাত্র বিশ্বনাথই বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করল, কারণ বন্ধুরা ভয় পেয়ে ফিরে যায়। বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই সে লক্ষ্য করে, ভেতরটা পুরনো হলেও কিছু কিছু জিনিস প্রায় নতুন মনে হচ্ছিল। একটি দরজা, যা বন্ধ ছিল, তা হঠাৎ করে নিজে নিজে খোলা দেখে তার মনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।
দরজার ওপাশে এক শীতল বাতাস তাকে ছুঁয়ে যায়। রুমের মধ্যে ছিল একটি বিশাল আয়না, যা অনেক বছর পুরনো ছিল, এবং তার পাশে একটি বড়ো কাঠের চেয়ার। বিশ্বনাথ চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে আয়নার দিকে তাকাল। সেখানে তার নিজের প্রতিবিম্ব দেখা গেল, কিন্তু কিছু অদ্ভুত ছিল। তার চোখের ভিতরে একটা অন্ধকার ছায়া সরে সরে চলছিল।
এমন সময়, হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে একটা আওয়াজ ভেসে আসে। “তুমি কখনোই এখান থেকে বের হতে পারবে না।”
বিশ্বনাথ পিছন ফিরে তাকায়। তার অবাক হওয়া লাগলো, কারণ সেই আওয়াজটি তার নিজের কাছ থেকে আসছিল। সে নিশ্চিত ছিল না, এটা কি তার কল্পনা না কি আসলেই কিছু ঘটছিল। হঠাৎ করে দরজা আবার বন্ধ হয়ে যায়, এবং তার চারপাশের বাতাস একদম স্থির হয়ে যায়।
বিশ্বনাথ চেষ্টাও করল দরজা খোলার, কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হল না। তার মনে হতে থাকে, এই বাড়িতে আসা তার জন্য ভাগ্য না। তবে, সে একমাত্র ছিল, এবং সে জানত না, ওই পুরনো ঘর তাকে কখনোই বাইরে আসতে দিবে না।
পরে তার বন্ধুরা আবার ফিরে আসে, তবে তারা বিশ্বনাথকে কোথাও পায় না। বাড়ির মধ্যে তার উপস্থিতির কোনো চিহ্নও ছিল না, তবে, মাঝে মাঝে সেই পুরনো বাড়ির সামনে গিয়ে কেউ শোনা যায়, "আমি এখানে... আমি এখানে আছি..."
লোকজন বলত, যে একবার ঐ বাড়িতে ঢুকেছিল, তার আত্মা সেখানে থেকে যায়। আর বিশ্বনাথের আত্মা এখনো সেই বাড়িতে ঘুরছে, অপেক্ষা করছে, যাতে অন্য কেউ তার মতো ফাঁদে পড়ুক।