অন্ধকার গলি ( ভৌতিক ছোট গল্প)

 

অন্ধকার গলি

রাত তখন গভীর। শহরের ব্যস্ততা স্তিমিত হয়ে এসেছে। নীলয় অফিস থেকে ফিরছে। আজকের কাজের চাপ ছিল অসম্ভব, তাই দেরি হয়ে গেছে। শরীর ক্লান্ত হলেও মনের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি কাজ করছে।

বাড়ি ফিরতে shortcut নেওয়ার জন্য সে পুরোনো একটি অন্ধকার গলির মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলল। গলিটি বেশ সুনসান, বাতি টিমটিম করছে। হঠাৎ যেন তার মনে হলো, কেউ পেছন থেকে তার পায়ের শব্দের সাথে সাথে হেঁটে চলেছে। থেমে চারদিকে তাকাল নীলয়। কেউ নেই। "মনের ভুল হবে," ভেবে আবার হাঁটা শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছনে ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা অনুভব করল সে। এবার স্পষ্ট শুনতে পেল, ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল নীলয়। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, "কে... কে আছো?"

গলির অন্যপ্রান্ত থেকে এক নারীর ফিসফিসানি শোনা গেল, "আমাকে ফিরিয়ে দাও...।" নীলয়ের গলা শুকিয়ে গেল। এই গলিতে তো কোনো মহিলা থাকার কথা নয়! ভয় জেঁকে বসলেও সে সাহস করে এগিয়ে গেল।

গলির অন্ধকারের ভেতর থেকে একটি ম্লান আলো ফুটে উঠল। সেই আলোর মাঝে একটি ম্লান মুখ। মহিলা, কিন্তু তার চোখ দুটো গর্তের মতো ফাঁকা। চুল এলোমেলো, আর ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি।

"আমার জিনিস ফিরিয়ে দাও!" মহিলা ফিসফিস করে বলল।

"কি... কী জিনিস?" নীলয়ের গলা আটকে আসছে।

মহিলা চুপচাপ তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। হাতে একটি পুরোনো রুপোর চুড়ি। নীলয়ের মনে পড়ল, এই চুড়িটি সে গত সপ্তাহে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছিল। তখন বিষয়টি তার গুরুত্ব পায়নি।

নীলয় কোনো রকমে ব্যাগ থেকে চুড়িটি বের করে মহিলার দিকে এগিয়ে দিল। মহিলা চুড়িটি হাতে নিয়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল। চারপাশে কেবল কুয়াশার মতো এক অনুভূতি।

ভোরের আলো ফুটে উঠতে শুরু করল। নীলয় বুঝতে পারল, সে এক অভিশপ্ত স্মৃতির সাক্ষী হয়ে গেল।

সেদিনের পর থেকে নীলয় আর কখনো shortcut নেওয়ার সাহস করেনি। গলির পাশ দিয়ে গেলেও তার বুক ধড়ফড় করে ওঠে।

Others Links

Post a Comment

Previous Post Next Post